২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৫ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

খালেদার গ্রেফতার আবেদন ফিরিয়ে দিলেন বিচারক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮, সময় ৫:২৬ অপরাহ্ণ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মানহানির একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছেন বিচারক।

আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবীব এ আবেদনটি ফিরিয়ে দেন এবং আগামী ১৪ মার্চ খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা গেল কি না সে মর্মে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে আজ সকালে মানহানির মামলায় বাদী জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী আদালতে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি হলে বিচারক বিকালে আবেদনটি বাদীকে ফিরিয়ে দেন।

গত বছরের ১২ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবীর আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর ৭ নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দখল করেন। জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাঁকে হুমকি ও অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীনতার ইতিহাস হুমকিযোগ্য ও মানহানিকর অপরাধ করায় তাঁকে মামলায় মরণোত্তর আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার সম্মান লঙ্ঘন করেছেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেবরুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এ মামলার অন্য আসামি তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজন পেয়েছেন ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। পাশাপাশি তাদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানাও হয়েছে। রায়ের পর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে।