২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৮ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

‘চরিত্র’ বলে কিছু নেই ওর কিন্তু এত খারাপ জানতাম না: অপু

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, সময় ১:৫৯ অপরাহ্ণ

২০১৭ ঘটেছিল নানা ঘটনা। তার মধ্যে শাকিব-অপুর বিচ্ছেদের ঘটনা ছিল অন্যতম। যা নিয়ে এখনো চলচ্চিত্র পাড়ায় গরম বাতাস বইছে। মাঝে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এ ডিভোর্সের আবেদন করেন শাকিব। এ ঘটনার পর নিয়মানুযায়ী সিটি করপোরেশন বিষয়টি সুরাহার উদ্যোগ নিয়েছে। ডেকেছেন সালিশি বৈঠক। এতে শাকিব-অপুকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়।

ঘটনা ঘটে অন্য রকম। গত ১৫ জানুয়ারি ডিএনসিসির অঞ্চল-৩ এর অফিসে তাদের তালাকের বিষয়টি নিয়ে শুনানি হওয়ার তারিখ নির্ধারণ হয়। এতে অপু বিশ্বাস গেলেও সেদিন হাজির ছিলেন না শাকিব খান। এরপর ডিএনসিসি সালিশের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন নির্ধারণ করে।

সে দিনটি আজ (১২ ফেব্রুয়ারি)। কিন্তু এতেও অংশ নেননি শাকিব। তার ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করছেন সালিশি বৈঠকে শাকিব খান অংশ নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

এমনকি আজকের এ বৈঠকে অপু বিশ্বাসও যাননি। তিনি ডিভোর্সের বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে অপু বলেন, ‘আমি ডিভোর্সের বিষয়টি মেনে নিয়েছি। পরিবারের বিষয়গুলো জনসম্মুখে আনা ঠিক নয়। তারপরও শাকিব খান বিষয়টিকে জনসম্মুখে নিয়ে এসেছেন। তিনি একবারও চিন্তা করেননি যে, তার একটি সন্তান আছে। তার উপর এর প্রভাব পরতে পারে। তিনি নিজেকে ইতিবাচক দেখানোর জন্য সব সময় জনসম্মুখে বিষয়গুলো নিয়ে আসছেন। আর আমি আমার বচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে সব সময় চেয়েছি বিষয়গুলো বাইরের মানুষ কম জানুক।’

তিনি আরো বলেন, ‘শাকিব খান আগেই আমাকে বলেছিলো, আমাদের সন্তান হলেই সে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে। তখন আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেইনি। কথার কথা মনে করেছিলাম। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি বিষয়টা কতটা সত্যি।

আমি জানতাম, শাকিব খানের চরিত্র খারাপ কিন্তু এত খারাপ জানতাম না। যে সব মেয়েদের সাথে তার ওঠা-বসা; আমি ভেবেছিলাম সন্তান হলে সে এই পথ থেকে সরে আসবে। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। বাবা হয়ে সন্তানের স্বার্থেও সে ছাড় দিতে পারে নি। শাকিব খান যে কাজগুলো করেছেন দর্শক তাদের বিবেক দিয়ে নিশ্চয়ই তা বিবেচনা করবেন। আমি তাকে ভালোবেসে ঘর ছেড়েছি, পরিবার ছেড়েছি, ক্যারিয়ার ছেড়েছি। বিনিময়ে পেয়েছি অবহেলা আর অসম্মান।’

শুনছি আব্রাহাম খান জয়কে স্কুলে ভর্তি করাবেন শাকিব খান। কিন্তু ডিভোর্স লেটার পাঠানোর পর থেকে তার তো খোঁজ নেই। আমি তাকে সব দিক থেকে মাফ করে দিয়েছি। যোগ করলেন অপু।

তারকা এই দম্পতির বিয়ের সময় কাবিন আইন অনুযায়ী হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন ছেড়ে দিয়ে অপু বলেন, ‘আদৌ বিয়ের সময় আমার কাবিন আইন অনুযায়ী শাকিব করেছে কিনা আমি জানি না। কাবিনের কাগজে টাকার অঙ্কটা বড় ছিল। সেই কাগজ শাকিবের কাছে আছে। আমার কাছ থেকে কাগজটা ওরা ছিনিয়ে নিয়েছে।

আমি মুসলমান ধর্মের বিয়ের রীতি পুরোপুরি জানতাম না। ফলে শাকিব যেভাবে বলেছে আমি তাই করেছি। তবে আমি দেখেছি, কাবিনের কাগজে এক কোটি সাত লাখ টাকার দেনমোহরের কথা লেখা ছিলো। কিন্তু এখন শাকিব খান বলছেন, সাত লাখ টাকার নাকি দেনমোহর করা হয়েছে। এক কোটি টাকা কোথায় হাওয়া হয়ে গেল আমি জানি না। যেহেতু আমার কাছে কাগজপত্র নেই ফলে আমি কিছু প্রমাণ করতে পারব না।’