১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩রা জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

শিশু থেকে পরিণত শিল্পী, টেকে কয়জন?

ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৮, সময় ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ

তারকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শোবিজে অনেকেই আসেন, তবে স্বপ্ন পূরণ হয় হাতেগোনা কিছু মানুষেরই। ছেলেবেলায় হয়তো শিশু শিল্পী হিসেবে কেউ কেউ খ্যাতি পান, কিন্তু বড় হতে না-হতেই বেমালুম হারিয়ে যান বিস্মৃতির অতলে। প্রচণ্ড সম্ভাবনাময় শিশু অভিনেতা হিসেবে সুযোগ পেয়েও নিজের ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করতে পারেননি, এমন উদাহরণ চাইলেই মিলবে গণ্ডা গণ্ডা। তবে কেউ কেউ কিন্তু ঠিকই প্রমাণ করেছেন নিজেদের ক্ষমতা।

একটা সময়ে নতুনদের আগমনের একটা পথ ছিল নতুন কুঁড়ি। সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্য থেকে আজ অনেকেই তারকা। প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা ছিল শিশু শিল্পী। যেমন:- তারানা হালিম, রুমানা রশীদ ঈশিতা, তারিন আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, সাবরিন সাকা মীম এবং নুসরাত ইমরোজ তিশা, তমালিকা কর্মকার, মেহবুবা মনহোর চাঁদনী, সামিনা চৌধুরী।

তাদের পাশাপাশি অনেক শিল্পীরই আগমন ঘটেছে। একটু খোঁজ নিয়ে জানা গেল ১৯৭৬ সাল থেকে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শিশুদের নাম। তাঁর মধ্যে রয়েছে- আদনান- ‘মেঘের অনেক রং’, আজাদ রহমান শাকিল-‘ডুমুরের ফুল’, সুমন- ‘অশিক্ষিত’, ইলোরা গহর ও সজীব- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, বিন্দী হুসাইন- ‘লাল কাজল’, আঁখি আলমগীর- ‘ভাত দে’, জয়- ‘রামের সুমতি’, কামরুন্নাহার আজাদ স্বপ্না- ‘মায়ের দাবী’, রাসেল ও সুবর্ণা শিরীন- ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, তুষার- ‘আগমন’, দুদোল- ‘লাখে একটা’, জয়-‘সান্ত্বনা’, বেবি সিমী- ‘উচিত শিক্ষা’, অনিক-‘অবুঝ সন্তান’, শিলা আহমেদ-‘আগুনের পরশমণি’, তন্ময়- ‘অন্য জীবন’, অরুণ সাহা- ‘দীপু নাম্বার টু’, নিশি- ‘দুখাই’, রাসেল ফরায়েজী-‘মাটির ময়না’, প্রিয়াংকা-‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’, অমল-‘দূরত্ব’, হৃদয় ইসলাম-‘টাকা’, প্রার্থনা-‘ফারদিন’, দিঘী- ‘কাবুলিওয়ালা’, সৈয়দা ওয়াহিদা সাবরীনা-‘গঙ্গাযাত্রা’, ফারদিন- ‘প্রার্থনা’, দিঘী- ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’, সেমন্তী- ‘খণ্ড গল্প ১৯৭১’,মামুন- ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, স্বচ্ছ- ‘একই বৃত্তে’, আবির হোসেন অংকন- ‘বৈষম্য’, যারা যারিব- ‘প্রার্থনা’।

এর মধ্যে অনেক শিশুশিল্পীই প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও রুপালি পর্দায় অভিনয়ের বাসনা ত্যাগ করেছেন। এটি মুদ্রার এক পিঠের গল্প। মুদ্রার অন্য পিঠে দেখা যায়, এক সময়ের প্রতিভাধর শিশুশিল্পী পরবর্তী সময়ে নাম লেখাচ্ছেন চিত্রনায়িকার খাতায়।

১৯৮৪ সালে আমজাদ হোসেনের ক্ল্যাসিক ছবি ‘ভাত দে’-তে শাবানার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ওই ছবির অভিনেতা আলমগীরের মেয়ে আঁখি আলমগীর। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিলেন আঁখি। সকল সুযোগ থাকা সত্বেও তিনি বাবা আলমগীরের শখ গানটাকেই পেশা ও নেশা হিসেবে নেন।

আবার দেখা যায়, এক সময়ের প্রতিভাধর শিশুশিল্পী পরবর্তী সময়ে নাম লেখাচ্ছেন চিত্রনায়িকার খাতায়। এই ধারায় সবচেয়ে সফল নাম হিসেবে আলোচিত হয় সুচরিতার কথা। তিনি বেবী হেলেন বলে ছোটবেলায় দারুণ নাম কামিয়েছেন। আবার তিনিই সুচরিতা হওয়ার পর জনপ্রিয় নায়িকা হয়েছেন। সুচরিতার পথ ধরে অনেকেই পর্দায় এসেছেন। কেউ কেউ সফল হয়েছেন। কেউ কেউ বিফল হয়েছেন। তারপরও শিশুশিল্পীদের নায়িকা হওয়ার মিছিল থেমে থাকেনি। সম্প্রতি শিশুশিল্পী হিসেবে পূজা চেরীর নায়িকা হওয়া নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। ‘নূর জাহান’ ও ‘পোড়ামন ২’ নামে দুটি সিনেমা নিয়ে তিনি আলোচনায়।

পূজার চেয়ে কোনো অংশে কম আলোচিত ছিল না দীঘি। বরং জনপ্রিয়তায় অনেক এগিয়ে ছিলেন সুব্রত-দোয়েল জুটির মেয়ে দীঘি। গ্রামীণফোনের এক বিজ্ঞাপন করে দেশজুড়ে পেয়েছিলেন ব্যাপক পরিচিতি। তারপর দীঘি আসেন সিনেমায়। কাজী হায়াতের ‘কাবুলিওয়ালা’ ছবিতে মান্নার সঙ্গে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পেয়ে যান দীঘি। আরো দুবার এই সম্মান পান। দীঘির জন্যই এখন দর্শকদের অধীর অপেক্ষা। তাকে নায়িকারূপে দেখতে চান লক্ষ দর্শক। সেই দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে শিশুশিল্পীর চরিত্রে বিরতি নিয়েছেন দীঘি। প্রস্তুত হচ্ছেন নায়িকা হওয়ার জন্য।

শিশুশিল্পীদের পরিণত শিল্পী হওয়ার প্রতি দর্শকদের সমর্থন যেমন রয়েছে, তেমনই তাদের সাফল্য নিয়েও রয়েছে শঙ্কাও। শিশুশিল্পীরা পরবর্তীতে তারকা বনে গেছেন এমন উদাহরণ যেমন রয়েছে। কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার সংখ্যাটা অনেক বেশি। শিশুশিল্পীরা যতটা জনপ্রিয়তা পায়, তাদের সঠিকভাবে পরিচর্যা ইন্ডাস্ট্রির জন্য সুফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে।