১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং, ৭ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩রা জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী

সু চির বাড়িতে বোমা হামলা

ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৮, সময় ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রত্যাবাসন নিয়ে টানাপড়েন আর আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই মিয়ানমারের নেত্রী এবং দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইয়াঙ্গুনে সু চির বাড়িতে বোমাটি নিক্ষেপ করা হলে আগুন ধরে যায় বলে তাঁর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে হামলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, এ সময় সু চি বাসায় ছিলেন না। তিনি রাজধানী নাইপিদোতে অবস্থান করছিলেন। আর বোমাটি নিক্ষেপের পর দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহতও হয়নি।

তবে কারা এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে, সে সম্পর্কে কোনো কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কর্মকর্তার। সন্দেহভাজনদের খোঁজে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি শুরু করেছে বলে সু চির দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানা যায়, ইয়াঙ্গুনে একটি লেকের পাশেই মিয়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চির বসবাস। জান্তা সরকারের শাসনামলে সুদীর্ঘ গৃহবন্দিত্বের কালে এই বাড়িতেই ছিলেন তিনি। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের কাছে গণতন্ত্রের প্রতিক হয়ে উঠেছে সু চির ইয়াঙ্গুনের বাড়িটি।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালায় আরসা বিদ্রোহীরা। এরপর রাখাইনে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে বহু মানুষ নিহত হন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার হয়েছে বহু নারী ও শিশু। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। গোটা সময় ধরেই এসব প্রশ্নে নীরব ছিলেন সু চি।

অভিযানের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও করেছে মিয়ানমার। তবে সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা মত দিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না।

গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে সুদীর্ঘকাল গৃহবন্দি থাকার পর ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয় সু চির দল এনএলডি। সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘দ্য লেডি’ হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে একটি ডে ফ্যাক্টো সরকার গঠন করে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেয়। বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনের ওই বাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলার সময় রাজধানী নেপিদোতে ছিলেন তিনি। সেখানে এনএলডি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সংসদে ভাষণ দেবেন এই নেত্রী।