মিন্টো রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে, তবে এতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত বা বাহুল্য ব্যয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন সরকার গঠনের পর এ ভবনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হলেও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি করা হয়েছে সাশ্রয়ীভাবে।
এর আগে এই ভবনে অবস্থান করতেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি ভবনটি ত্যাগ করলে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য এটিকে প্রস্তুত করা হয়। নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর উপযুক্ত বাসভবন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল অপচয় এড়িয়ে কাজ সম্পন্ন করা। সেই অনুযায়ী কোনো বিলাসবহুল সংস্কার না করে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে। ভবনের ভেতরে রঙ করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং জীবাণুমুক্তকরণের মতো মৌলিক কাজগুলোই সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে কম খরচে এটি ব্যবহার উপযোগী করা যায়।
ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছু সরকারি কার্যক্রমও পরিচালনা করেছেন। তবে তিনি কবে থেকে স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস শুরু করবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে মিন্টো রোডের অন্যান্য সরকারি বাসভবনগুলোও সংস্কারের আওতায় আনা হয়েছে। জানা গেছে, কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেখানে উঠেছেন। আরও কিছু বাসভবন ঈদের আগেই হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর বাকিগুলো ঈদের পর পর্যায়ক্রমে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ঈদের পর বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানেরও মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ওঠার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সরকারি বাসভবনগুলোতে প্রস্তুতি ও পুনর্বিন্যাস কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

