বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বোর্ড পুনর্গঠন ও নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ক্রিকেটারদের সম্মান ও অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি মনে করেন, ক্রিকেট খেলোয়াড়েরা পারফরম্যান্সের বিনিময়ে প্রাপ্য সম্মানও চান।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পুরনো বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন করে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা গেছে। তবে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মিঠুন। তার দাবি, অনেক মন্তব্যই পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে এবং এর পেছনে একটি ‘বট বাহিনী’ কাজ করছে।
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সভাপতি হিসেবে মিঠুন বলেন, খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করাই তার দায়িত্ব। এ কারণে সমালোচিত হলেও তিনি পিছপা নন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, খেলোয়াড়দের স্বার্থ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হলে সেটি নিয়ে তিনি চিন্তিত নন।
এদিকে, একটি পডকাস্টে তামিম ইকবালও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচকদের একটি অংশকে ‘বট বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। মিঠুনও সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং মনে করেন, অনেক সমালোচনা প্রকৃত মতামত নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ক্রিকেটারদের সম্মান প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, শুধু খেলোয়াড় নয় বরং খেলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে সম্মান দেওয়া উচিত। কেউ যেন কাউকে ছোট করে কথা না বলে, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে ক্রিকেটের পরিবেশ আরও ইতিবাচক হবে।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, বুলবুল দীর্ঘদিন বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি কখনো খেলোয়াড়দের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেননি। তার মতে, এই ধরনের আচরণই সবার জন্য অনুসরণযোগ্য হওয়া উচিত এবং ক্রিকেটাঙ্গনে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।
এছাড়া নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ও বেতন বাড়ানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড়দের এই দাবি ছিল বলে জানান মিঠুন।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেও খেলোয়াড়দের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন মিঠুন। তার বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ক্রিকেটে উন্নতির জন্য শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও সমানভাবে জরুরি।

