ছেলে হান্নান মাসুদের কাছে ভোটে হেরে জামানত হারালেন বাবা আমিরুল

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ভোট প্রতিযোগিতা। বাবা ও ছেলে একই আসনে প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক দু’জনই আলাদা রাজনৈতিক প্রতীকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এই আসনে এনসিপির প্রার্থী হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) একতারা প্রতীক নিয়ে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে হান্নান মাসউদ ৯১,৮৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪,০২১ ভোট। অন্যদিকে, একতারা প্রতীকে ৫০৫টি ভোট পেয়েছেন আমিরুল ইসলাম।

এই আসনে মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫১। নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি প্রঞ্জাপন জারি করেছিল যেখানে বলা ছিল, কোনো আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোটও কোনো সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। প্রতি প্রার্থী থেকে জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল ইসি। অর্থাৎ, আমিরুল ইসলামের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে প্রদত্ত মোট ভোটের ১২.৫%ও না পাওয়ায়।

আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তোলা এই ব্যালটের লড়াইয়ে হান্নান মাসউদ মাত্র ২৬ বছর বয়সে একজন তরুণ নেতা হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন যিনি প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। হান্নান মাসউদ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাবা ও ছেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ও কৌতূহল তৈরি করেছে এবং এসব ঘটনা নির্বাচনের আলোচ্য বিষয়গুলির অন্যতম। তরুণ প্রজন্মের নেতা হিসেবে হান্নান মাসউদের বিজয় তরুণ ভোটারদের মনোভাব ও পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রতিফলিত করছে।

এই নির্বাচনে হান্নান মাসউদের বিজয় শুধু ভোট সংখ্যা বা আসন জয়ের চেয়ে বড় অর্থ বহন করে। এটি একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেয়, যেখানে তরুণ নেতৃত্বের সামনে আগামী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী মাঠে আরও শক্ত জমির দাবি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top