ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি থেকে নির্বাচিত হওয়ায় এটি আসন শূন্য ঘোষণার পর এই আসনে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং এই আলোচনা চলছে পুরো অঞ্চলে।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেবে এবং কে প্রার্থী হবে সেই নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত টানা ৪ বার এই আসনে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের পর পরবর্তী উপনির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন দলের প্রার্থী বিজয়ী হলেও এবার প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্বাচিত হয়ে আসনটি শূন্য করেছেন, ফলে উপনির্বাচনটি রাজনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী), ব্যারিস্টার জাইমা রহমান (প্রধানমন্ত্রীর কন্যা) ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথির নাম শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছে বিএনপি জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি এ. কে. এম. মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা, এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর মতো নেতাদের নামও।
স্থানীয়রা বলছেন, এই আসনে কেবল পরিচিত ও বড় নাম নয়, বরং এমন প্রার্থী দরকার যিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধিসহ জনসেবামূলক কাজ করতে সক্ষম। কিছু ভোটার মনে করেন, শুধু ভোটের সময় উপস্থিত থাকা নয়, বরং সবসময় এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন এমন প্রার্থী দরকার।
বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী এই আসনে অংশগ্রহণ করবে কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি এবং বিষয়টি নিয়ে এখন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত এলেই তাদের প্রার্থী কে হবে জানা যাবে।
এ অবস্থায় উপনির্বাচনের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ ও মনোনয়ন দানের পরই দলীয় কৌশল এবং ভোটের ফলাফল সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

