ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিল শিবির কর্মী!

ফেনী জেলার পরশুরাম চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় তালাক দিয়েছেন। দুই সন্তানের জননী রানু আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী নূর মোহাম্মদ সুমন তাকে ধানে শীষে ভোট দেওয়ায় তালাক দিয়েছেন। তিনি জানান, নূর মোহাম্মদ সুমন শিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী।

রানু আক্তার জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগের দিন সুমন তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কোন প্রতীকে ভোট দিবেন? ছোটবেলা থেকেই তার বাবাকে ধানের শীষে ভোট দিতে দেখায় তিনিও ধানের শীষে ভোট দিবেন। এ কথা জানার পর সুমন তাকে ভোট দিতে নিষেধ করেন। কিন্তু ভোটের দিন সুমন বাড়ি থেকে বের হলে রানু রাজষপুর আলী আজ্জম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেন। রানু অভিযোগ করেন যে এই ঘটনার পর সুমন তাকে এবং তাদের বড় ছেলেকে মারধর করে বাড়ি থেকে নিজে বের হয়ে যান। যাওয়ার সময় বাড়ির দলিলও সাথে নিয়ে যান।

রানু অভিযোগ করেন, সুমন আইনজীবীর সহায়তায় আদালতের মাধ্যমে তাকে তালাক দিয়েছেন। সুমনের কাছে যখন প্রশ্ন করা হয়, ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তালাক দিয়েছেন কিনা তখন তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তিনি তালাক দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রানু আক্তার তো ভোটারই না। তিনি কিভাবে ভোট দিবেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, চিথলিয়া ইউনিয়নের পাগলীরকুল গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে নূর মোহাম্মদ সুমন একই ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামের নূর আহমেদের মেয়ে রানু আক্তারকে ২০১৪ সালের ৭ই ননভেম্বর বিয়ে করেন। মোবারক হোসেন মুরাদ (১০) ও মোহাম্মদ মোস্তাকিম হোসেন (৩) নামে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে তাদের সংসারে।

প্রাপ্ত এফিডেভিটের কপিতে দেখা যায়, সংসারজীবন পালনে অক্ষমতা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অবাধ্যতাসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রানু আক্তারকে তালাক দেওয়া হয়। ফেনীর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের আইনজীবী রবিউল হক রবির স্বাক্ষরে এফিডেভিটটি ইস্যু করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top