প্রথম তেল-শূন্য দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ তেল সংকটের গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম ‘তেল-শূন্য’ দেশে পরিণত হতে পারে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত অত্যন্ত আমদানিনির্ভর। দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আসে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো ধরনের সরবরাহ বিঘ্ন ঘটলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে।

বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এই পথ দিয়েই এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামও বেড়েছে।

এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের ভেতরেও দেখা দিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে’ মজুত কমে যাওয়ার খবরও পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সীমিত মজুত দিয়ে অল্প সময়ের বেশি চাহিদা মেটানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যকরণ ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।

সব মিলিয়ে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও জনজীবনে আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top