বিরোধী দলীয় নেতা হচ্ছেন জামায়াত আমির, উপনেতা নাহিদ ইসলাম

সদ্যসমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দলটি এককভাবে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ৬৮টি আসনে জয় লাভ করেছে, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্তির রেকর্ড। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসন লাভ করেছে। ফলে জোটগতভাবে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭।

দলীয় ও জোট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদীয় দলের নেতা হতে যাচ্ছেন। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তম দল হিসেবে তিনি পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করবেন এমনটাই নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

বিরোধীদলীয় উপনেতা পদ নিয়ে আলোচনা চলছে। জোটের একটি সূত্র জানায়, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম আলোচনায় এগিয়ে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম জানিয়েছেন, এখনো এ বিষয়ে কোনো বৈঠক হয়নি এবং দলীয়ভাবে সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়নি।

উপনেতা পদে মোট চারজনের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এনসিপির নাহিদ ইসলামের পাশাপাশি জামায়াতের তিন নায়েবে আমিরের নামও বিবেচনায় আছে। তারা হলেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। রাজনৈতিক মহলে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সম্ভাবনাই বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, জোটের স্বার্থ বিবেচনায় শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, জামায়াত এবার মোট ভোটের প্রায় ২৭ শতাংশ পেয়েছে। এছাড়া অন্তত ৫৩টি আসনে দলটির প্রার্থীরা দুই হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। ফলে ভবিষ্যতে দলটির সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংসদে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে দলটি আরও ১৩টি এবং প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে ২৭টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পাওয়া দলটি এবার শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এর আগে ১৯৯১ সালে দলটি ১৭টি এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের অংশ হিসেবে ১৮টি আসন লাভ করেছিল।

অন্যদিকে দলের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের দাবি করেছেন, জনগণ তাদের সরকার গঠনের মতো সমর্থন দিলেও ফলাফলে কারচুপি করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জামায়াতের এবারের উত্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর দলটি সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও জোট কৌশলের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top