বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে নতুন পোশাক বা ইউনিফর্ম নিয়ে নতুন করে বির্তক শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাহিনীতে চালু হওয়া নতুন ইউনিফর্মটি নিয়ে মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ সদস্যদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, এবং তারা আগের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফিরে যেতে চান বলে দাবি করছেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সদস্যদের একটি সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সরকারের কাছে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন পোশাক নির্বাচনের সময় সদস্যদের মতামত পর্যাপ্তভাবে নেওয়া হয়নি, এবং আবহাওয়া, গায়ের রঙসহ বাস্তব অবস্থাকে বিবেচনায় না রেখে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। অনেক সদস্য মনে করেন এই ইউনিফর্মটি অন্যান্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিল রয়েছে, যার ফলে মাঠে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে গিয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘদিন খাকি পোশাকেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাদের ঐতিহ্যের এবং পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। নতুন পোশাক নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এছাড়া সংগঠনটি জানায়, নতুন ইউনিফর্ম তৈরি করা একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াতে পারে। তারা মনে করেন এই অর্থ ব্যবহার করে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সংগ্রহ ও অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি করাই বেশি যুক্তিযুক্ত। তাছাড়া পোশাকের রঙ বা নকশা নয়, বরং সদস্যদের মনোবল, মানসিকতা ও পেশাদারিত্ব উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া উচিত।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে যে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা হোক, এবং আরও বিস্তৃত গবেষণা ও জনমত যাচাইয়ের পর এক বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে , সদস্যদের আবেগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মক্ষমতা ও জনগণের কাছে বিশ্বাস আরও বাড়বে।

