সৌদি আরবের ঝলমলে রাতে আরেকটি স্মরণীয় এল ক্লাসিকো। উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি আক্রমণ আর শেষ মুহূর্তের নাটক; সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নিজেদের করে নিল কাতালান ক্লাব বার্সেলোনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল পায়ে আধিপত্য দেখায় হানসি ফ্লিকের দল। পরিকল্পিত ছন্দে খেলা সাজায় তারা, আর রিয়াল মাদ্রিদ অপেক্ষা করে সুযোগের। সেই সুযোগের দেয়াল ভাঙে ৩৬ মিনিটে। বক্সের ভেতরে জায়গা করে নিচু শটে জাল কাঁপান রাফিনিয়া।
তবে এল ক্লাসিকো মানেই নাটক। একক নৈপুণ্যে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করে ম্যাচে ফেরান রিয়ালকে। কিন্তু বিরতির আগে আবার রং বদলায় ম্যাচের। পেদ্রির নিখুঁত পাসে লেভান্ডভস্কির ঠান্ডা মাথার চিপ শট, বার্সেলোনা আবার এগিয়ে যায়। তবু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই যোগ করা সময়ে গনজালো গার্সিয়ার গোলে ফের সমতায় ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ।
দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই কিছুটা হিসেবি খেলায় যায়। মাঝমাঠে লড়াই জমে ওঠে। ম্যাচ যখন সমতায় এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন আবার নায়ক বনে যান রাফিনিয়া। ৭৩ মিনিটে তার শট এসেনসিওর গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে পড়ে। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।
শেষ সময়টা বার্সেলোনার জন্য সহজ ছিল না। কিলিয়ান এমবাপের ওপর ফাউলের জন্য ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং লাল কার্ড দেখলে চাপ বাড়ে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা। দশ জনের দল নিয়েও শেষ বাঁশি পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় বার্সা এবং জয় ছিনিয়ে নেয়।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বার্সেলোনা জেতে তাদের রেকর্ড ১৬তম স্প্যানিশ সুপার কাপ। হান্সি ফ্লিকের অধীনে এটি তাদের চতুর্থ শিরোপা, আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দশম জয়।
ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো বলেন, ‘যেভাবেই হার হোক, কষ্ট লাগে। তবে এটা সমানে সমান একটি ম্যাচ ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা লড়াই করেছি। বার্সেলোনাকে অভিনন্দন জানাই।’
বার্সেলোনা স্ট্রাইকার লেভান্ডভস্কির কণ্ঠে ছিল তৃপ্তি, ‘আমরা খুব খুশি। আরেকটি শিরোপা জিতেছি। মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ সব সময় বড়। আমরা ভালো খেলেছি। জয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
রাফিনিয়ার প্রশংসায় তিনি যোগ করেন, ‘সে সব সময় ঠিক জায়গায় (পজিশন সেন্স) থাকে।’

