সারাদেশে বইছে শৈত্যপ্রবাহ, সুস্থ থাকতে যা করবেন

পৌষের শেষ আর মাঘের শুরুতে জেঁকে বসেছে শীত। শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত। হিমালয় থেকে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছে সারা দেশের মানুষ। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা এখন থমকে যাওয়ার উপক্রম। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চিরাচরিত দৃশ্যের পাশাপাশি বাড়ছে সর্দি, কাশি, হাঁপানি ও নিউমোনিয়ার মতো ঋতুভিত্তিক রোগের প্রকোপ। এই বৈরি আবহাওয়ায় নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে কেবল সচেতনতাই হতে পারে প্রধান ঢাল।

শীত মানেই উৎসব আর পিঠাপুলির আমেজ। কিন্তু এই আমেজের আড়ালে লুকিয়ে থাকে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। অতিরিক্ত ঠান্ডায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে সুস্থ থাকতে হলে জীবনযাত্রায় মানতে হবে কিছু বিষয়।

সুস্থতায় যা করবেন

১. পোশাক: শীতে একটি খুব ভারী পোশাক পরার চেয়ে স্তরে স্তরে কয়েক স্তর পাতলা পোশাক পরা বেশি কার্যকর। ভেতরে সুতির আরামদায়ক পোশাক, মাঝে শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য ফ্ল্যানেল বা পশমি পোশাক এবং বাইরে বাতাসরোধী জ্যাকেট বা সোয়েটার পরুন। মাথা ও কান ঢাকতে মাফলার বা টুপি এবং পায়ে মোজা ব্যবহার নিশ্চিত করুন।

২. খাদ্যাভ্যাস: খাবার টেবিলে রাখুন ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ তাজা ফল, সবজি, ডাল ও বাদাম। শরীরে উষ্ণতা জোগাতে গরম স্যুপ, ভেষজ চা (আদা-লেবু চা), গরম দুধ বা কুসুম গরম পানি পান করুন। শীতকালে তৃষ্ণা কম পায় বলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, তাই পর্যাপ্ত পানি পানের কথা ভুলবেন না।

৩. শরীরচর্চা ও রোদ পোহানো: তীব্র কুয়াশা এড়িয়ে ঘরের ভেতর বা সকালে হালকা রোদে ১৫-২০ মিনিট ব্যায়াম করুন। সকালের মিষ্টি রোদ শরীরের ভিটামিন ডি-এর চাহিদা মেটায়।

৪. ত্বক ও স্বাস্থ্যবিধি: শীতের শুষ্কতায় ত্বক ফেটে যাওয়া রোধ করতে গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার বা অলিভ অয়েল এবং ঠোঁটে লিপ বাম ব্যবহার করুন। সর্দি-কাশির জীবাণু থেকে বাঁচতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।

যা করবেন না

ঠান্ডা খাবার বর্জন: ফ্রিজের ঠান্ডা পানি, সরাসরি ঠান্ডা বা বাসি খাবার এবং আইসক্রিম থেকে দূরে থাকুন। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।

ক্যাফেইন ও ধুমপানে নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত চা বা কফি শরীরে পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে। আর ধুমপান আপনার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে কয়েক গুণ।

কান ও মাথা খোলা: অনেকেই কান খোলা রেখে চলাফেরা করেন, যা ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ। কান ও বুক সবসময় ঢেকে রাখুন।

অতিরিক্ত পরিশ্রম: কনকনে ঠান্ডায় হঠাৎ খুব ভারি কাজ বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুসের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মোটকথা, শীতের এই বৈরিতা প্রকৃতির নিয়ম, কিন্তু অবহেলা আপনার জীবনকে বিপন্ন করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখবেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর সামান্য সতর্কতা আপনাকে এই শীতেও রাখতে পারে সজীব ও কর্মক্ষম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top