প্রায় দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন?
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ‘গণভবন’ সেই সময় ছাত্র-জনতার ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ভবনটি রূপান্তর করা হয় ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ। ফলে ঐতিহ্যবাহী ওই বাসভবনে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ওঠার সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’র নাম। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ‘যমুনা’কে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘যমুনা’ বর্তমানে সুরক্ষিত ও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত মিললে অল্প সময়ের মধ্যেই এটিকে প্রধানমন্ত্রীর উপযোগী করে তোলা যাবে। নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সুবিধা ও প্রটোকল সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই প্রস্তুতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু অস্থায়ী ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না সরকার। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নতুন ও স্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন। আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কূটনৈতিক বৈঠকের সুবিধা, প্রশাসনিক ব্লক এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে পরিকল্পনায়।

একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কেবল আবাসন নয়; এটি রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সে কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি বাসভবনের সঙ্গে তুলনা করেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বলভাবে প্রতিফলিত হয়।
এদিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’র পাশেই ২৯ নম্বর ভবন বিরোধী দলীয় নেতার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে এই ভবনটি তৎকালীন বিরোধী নেতাদের জন্য বরাদ্দ ছিল। নতুন সংসদ গঠনের পর সেই ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
বর্তমানে তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানের ১৯৬ নম্বর সড়কের একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। শপথ গ্রহণের পর তিনি ব্যক্তিগত বাসভবনেই থাকবেন, নাকি সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরিত হবেন—তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।
দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি সরকারের সামনে যেমন রয়েছে প্রশাসনিক ও নীতিগত নানা চ্যালেঞ্জ, তেমনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি আবাসন নির্ধারণের বিষয়টিও হয়ে উঠেছে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ইস্যু। নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনায় এই সিদ্ধান্ত প্রতীকী গুরুত্বও বহন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

