অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার রাতে প্রচারিত ভাষণে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য শুভকামনা ব্যক্ত করেন।
ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, ”বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।”
দীর্ঘ এই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার শুরুর দিনগুলোর চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করেন। তাঁর ভাষায়, ”আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে।”
প্রশাসনের ভেতরে আস্থার সংকট এবং অস্থির পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভাষণে বলেন, ”কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না- এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল।”
ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদসংক্রান্ত গণভোটের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ”সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ই ফেব্রুয়ারি আসলো। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন, ”এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি।”
নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটছে।
সোমবারই প্রধান উপদেষ্টা তাঁর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শেষবারের মতো সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের কাছ থেকেও বিদায় নেন। প্রায় দেড় বছরের দায়িত্বপালন শেষে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

