যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে জ্বালানি খাতের এক বড় দুর্নীতি মামলায় সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশ-চেঙ্কোকে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় আটক করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) শনিবার এই গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেনযোগে ইউক্রেন ত্যাগের চেষ্টাকালে তাকে আটক করা হয়। তবে তিনি ঠিক কোন দেশে যাচ্ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
মিদাস মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গালুশ-চেঙ্কোর এই গ্রেপ্তার ‘মিদাস’ নামে পরিচিত একটি বড় দুর্নীতি মামলার তদন্তের অংশ। গত বছরের নভেম্বরে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২০০ কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নামে মামলা করা হয়, যার মধ্যে তিনিও একজন।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুর্নীতি চক্রের মূল হোতা ছিলেন ব্যবসায়ী তিমুর মিনদিচ। অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি খাতে অবৈধ লেনদেনে মিনদিচকে সহায়তা করতেন সাবেক মন্ত্রী গালুশ-চেঙ্কো। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তি বাতিল বা অর্থ পরিশোধে বিলম্ব এড়াতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হতো।
দুর্নীতির এ অভিযোগের মুখে গত বছরের নভেম্বরে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন গালুশ-চেঙ্কো। এই কেলেঙ্কারি ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ যুদ্ধের মাঝে দুর্নীতির এই চিত্র আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর আগে এই ঘটনার জের ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য চাপ বাড়ায়। যদিও ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরুর পর থেকে সামরিক আইন জারি থাকায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে নাম এড়িয়ে মিডিয়ায় সরব
নাবু এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দা বিভাগ মিদাস মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় সাবেক এক জ্বালানিমন্ত্রীকে আটক করেছে। বিবৃতিতে সরাসরি গালুশ-চেঙ্কোর নাম উল্লেখ না করা হলেও, ইউক্রেনের একাধিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যক্তি তিনিই।
