সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার নানা দিক তুলে ধরেন তারেক রহমান।
পোস্টে তিনি জানান, একাধিকবার চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০১৮ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থানকে বিতর্কিত করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তারা কখনোই সম্পূর্ণ কোটা বাতিলের পক্ষে ছিলেন না। বরং নারী, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জেলার প্রার্থীদের জন্য যৌক্তিক হারে—প্রায় ১৫ শতাংশ—কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর অনড় অবস্থানের কারণে পুরো কোটা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়, যা তিনি যথাযথ সিদ্ধান্ত ছিল না বলে মনে করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর মতো অপেক্ষাকৃত অনুন্নত জেলার মানুষের সুযোগ নিশ্চিত করতে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পক্ষেও তিনি নন, তবে ৬০ শতাংশের মতো উচ্চ হারকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

চাকরির বাজারে অনিয়মের শিকার হওয়ার কথাও পোস্টে তুলে ধরেন তিনি। কৃষি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়ার কারণে শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন। ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি চাকরির প্রচেষ্টা থেকে সরে এসে আম ও মধুর ব্যবসায় যুক্ত হন।

তিনি জানান, পলাশী ও আগারগাঁও এলাকায় তার দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে অনলাইনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে সফলতা পান। বর্তমানে এই ব্যবসা থেকেই তিনি সংসার পরিচালনা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যয় নির্বাহ করেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হলেও এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। নিজের ভাষায়, নির্বাচনী ফলাফলকে তিনি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতেই সবকিছু নির্ধারিত হয়। তিনি জানান, বর্তমান জীবন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যতেও আস্থা ও ধৈর্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।

