খামেনির চিরবিদায়, কে বসছেন তার চেয়ারে?

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে আসীন হন। তিনি একই সাথে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান এবং সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। এছাড়া ইরানের জাতীয় পুলিশ এবং ইরানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রেভ্যুলেশনারী গার্ডসও ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে। খামেনির মৃত্যুর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৭ বছর পর এই সকল কিছুর ইতি ঘটেছে। এখন ইরানকে খামেনির উত্তরসূরী হিসেবে নতুন একজন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে হবে। কিভাবে তাঁর উত্তরসূরী নির্বাচিত হবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে দেশটির রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য নিয়ে তিন সদস্যের কাউন্সিল সাময়িকভাবে ইরানকে নেতৃত্ব দিবে। রাষ্ট্রের সব নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত এই কাউন্সিল নিবে।

খামেনির উত্তরসূরী কে হবেন তা নিয়ে চলছে যত জল্পনা-কল্পনা। সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার দায়িত্ব এসেম্বলি অব লিডারশীপ এক্সপার্টস নামে একটি বিশেষজ্ঞ পরিষদ। এই পরিষদই আলি খামেনিকে রুহুল্লাহ খামেনির যেদিন মারা যান সেদিনই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে।

এই পরিষদ রাষ্ট্রের ৮৮ জন আলেম দ্বারা গঠিত যারা প্রতি ৮ বছর পর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। যদিও সব আলেমদের এই পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সবচেয়ে অনুগত আলেমরাই সুযোগ পান প্রার্থী হওয়ার।

যত দ্রুত সম্ভব নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা এই পরিষদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মুখে নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে। একারণে সবাই একত্রিত হতে পারছেন না। তিন সদস্যের কাউন্সিল খামেনির উত্তরসূরী নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top