ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে নিজের বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতির মামলার বিচার স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তার পুরো মনোযোগ দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযানের দিকে রাখা প্রয়োজন।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বৃ্হস্পতিবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি যুদ্ধের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাকে ‘অযৌক্তিক সার্কাস’ অ্যাখ্যা দেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট অ্যাইজাক হারজগের কাছে আবেদন করেন, যেন তাকে এই মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার মতে, দেশের সংকটময় সময়ে একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালু থাকলে রাষ্ট্র পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ, প্রতারণা ও আস্থাভঙ্গের অভিযোগে একাধিক দুর্নীতির মামলার মুখোমুখি। এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করছেন যে এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার দাবি, চলমান যুদ্ধের কারণে এখন তার পুরো সময় ও মনোযোগ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে প্রয়োজন।
এই সংবাদ সম্মেলনের আগে নেতানিয়াহু যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎকারে রাজি ছিলেন না। তিনি শুধুমাত্র পূর্বে রেকর্ড করা বিবৃতি প্রচার করতেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের মতো প্রেস ব্রিফিং ব্যবস্থার অনুরূপ কোনো দাপ্তরিক কাঠামো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেই। ফলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক বা বেসামরিক বিষয়ে নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করার নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে সরকারি প্রেস টিম থেকেও সাংবাদিকদের কাছে সীমিত পরিসরে তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তথ্যঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ করতে নিয়মিত ব্রিফিং করছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র এফি দেফরিন। তবে তার দেওয়া তথ্য মূলত সামরিক অভিযান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকে। বেসামরিক নীতি, কূটনৈতিক তৎপরতা বা সরকারের সিদ্ধান্তসংক্রান্ত বিষয় তার দায়িত্বের আওতার মধ্যে পড়ে না।

