নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে বেড়ে ওঠা বিরল অ্যালবিনো মহিষ “ডোনাল্ড ট্রাম্প” এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ঢাকার কাছের রাবেয়া এগ্রো ফার্মের এই বিশালাকৃতির মহিষটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানও।
শুক্রবার রাশিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে মহিষটির একটি ভিডিও শেয়ার করে রসাত্মক মন্তব্য করে। পোস্টে তারা লেখে, “বেচারা! ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করায় বিরক্ত বোধ করছে বাংলাদেশি মহিষটি।” পোস্টটিতে রুশ সংবাদমাধ্যম RT–এর একটি ভিডিও সংযুক্ত করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, ‘ট্রাম্পের মতো দেখতে একটি বাংলাদেশি মহিষকে দেখতে ভিড় করছেন বহু লোকজন। এ কারণে তার খাওয়ার রুচি চলে গেছে।’
মহিষটির মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই মজা করে মহিষটির নাম রেখেছিলেন “ডোনাল্ড ট্রাম্প”। কারণ মহিষটির মাথার সোনালি ঢেউখেলানো লোম এবং মুখের গড়নের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছুটা মিল রয়েছে। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি শান্ত স্বভাবের বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “অ্যালবিনো মহিষ সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়। উত্তেজিত না করলে রাগ করে না।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে উপস্থাপন করেছে। রয়টার্স শিরোনাম করেছে, “বাংলাদেশের বিরল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ ঈদে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।” অন্যদিকে এএফপি তাদের প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘কমান্ডার ইন চিফ’ উপাধির সঙ্গে মিল রেখে মহিষটিকে “কমান্ডার ইন বিফ” বলে উল্লেখ করেছে। ভারতের দি টাইমস অফ ইন্ডিয়াও বিষয়টি নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মহিষটি এখন একপ্রকার পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ খামারে এসে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একটি কোরবানির পশু আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

