জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিরোধী দলের লংমার্চে সরকারি দল বা প্রশাসন যদি বাধা দেয় তাহলে সরকার জনআস্থা আরও হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হতে পারে। তবে সরকার সেই পথে হাঁটবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান।
গোলাম পরওয়ার লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক। শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, লংমার্চে দেড় হাজার গাড়ি অংশগ্রহণ করবে।
মার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দল সংসদের ভেতরে এবং বাইরে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক আন্দোলন করছে। লংমার্চও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি। সরকার উৎখাতের জন্য কোনো আন্দোলন করা হচ্ছে না। তিনি সরকারকে পরামর্শ দেন, কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থা বজায় রাখা উচিত।
শনিবার সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে শাপলা চত্বরে প্রথম সমাবেশ হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ সমাবেশ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে হবে। যানজট বা অন্য সমস্যা না থাকলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে লংমার্চ লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।
পথে মানুষের ভোগান্তি কমাতে সব সভায় ১১ দলের সব নেতা বক্তব্য দেবেন না বলে জানান গোলাম পরওয়ার। স্থানীয় শাখা এবং নেতা-কর্মীরা পথসভার আয়োজন করবে। গাড়িবহরে থাকা নেতা-কর্মীরা পথসভায় নামবেন না, শুধু নির্ধারিত বক্তারা অংশগ্রহণ করবেন। পথে নতুন গাড়ি বহরে যুক্ত হলে সেগুলো বহরের শেষ দিকে থাকবে।
অংশগ্রহণকারীদের ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে এবং বাসগুলোতে থাকবে স্টিকার। নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক বিভাগ, আইটি টিম এবং মেডিক্যাল দলের গাড়ির জন্যও আলাদা পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

