রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কেবল মানবিক সহায়তা যথেষ্ট নয়, টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এই মতব্যপ্রকাশ করেছেন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গোলটেবিল আলোচনায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি দেশের সরকার রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণভাবে মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন। তার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ১.৫ মিলিয়ন। ইউএনএইচসিআর এর হিসাবে এ সংখ্যা ১.২ মিলিয়ন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানান যেন রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিক মঞ্চে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক সংকটের আড়ালে হারিয়ে না যায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা এবং কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে শরণার্থীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যাবে বলে তিনি মনে করেন।
ঐতিহাসিক সফলতার উদাহরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফরমুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠন করেছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সরকার রোহিঙ্গা পুনর্বাসন নিয়ে আশাবাদী এবং মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সেখানে পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

