আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব ডিজেলচালিত সেচপাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সেচে বিনামূল্যে সোলার বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চেয়েছিলেন সংসদ সদস্য।
একই প্রশ্নের সূত্র ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার এই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে। এই কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌর থেকে ৪,৫০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য, জলবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও অ্যাগ্রিভোলটেইক্সসহ অন্যান্য উৎস থেকে ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
প্রণোদনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও স্ট্যাকচারের ওপর কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ব্যয় ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, আর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদে সোলার বসিয়ে জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ দেওয়া গ্রাহকরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই হারে মূল্য পাবেন।
এ খাতে ইতিমধ্যে প্রণীত নীতিমালার তালিকাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে পিপিপি পদ্ধতিতে সরকারি জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা ২০২৬, বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা ২০২৫, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫, নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ২০২৫, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল, অনশোর উইন্ড গাইডলাইন এবং কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণ গাইডলাইন।
সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ব্যাটারি প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণে বর্তমানে প্রচলিত সিসা (লেড) ব্যাটারি ও পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি, দুই ধরনেরই ব্যবহার হয়। লেড ব্যাটারিতে ক্ষতিকর অ্যাসিড ব্যবহৃত হয় বলে সরকার এটিকে নিরুৎসাহিত করে লিথিয়াম ব্যাটারিকে উৎসাহিত করছে এবং এই ব্যাটারি তৈরির কারখানাগুলোকে সবরকম সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে ছাদভিত্তিক সোলারে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার চিন্তাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এদিন প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের মধ্যে তিনটির এবং সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
সুত্রঃ বাসস

