প্রধান সড়কে চলতে না দিলে ঢাকা দখলে নেওয়ার হুমকি অটোরিকশা চালকদের

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশার মালিক ও চালকেরা। দাবি মেনে নেওয়া না হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দখলে নিয়ে আন্দোলন আরও জোরালো করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। সোমবার (৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরদিন সকাল থেকেই ফার্মগেট, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, খিলগাঁও ও আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা মালিক ও চালকেরা মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা প্রেসক্লাবসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর সব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়া, পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং অটোরিকশা ডাম্পিং বন্ধ করা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সড়কে অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, স্বল্প আয়ের চালকদের জন্য এ ধরনের জরিমানা দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে আনা কঠিন। পাশাপাশি বিভিন্ন অটোরিকশা চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগও করেছেন তারা।

সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর একাধিক এলাকায় অটোরিকশা চালকদের অবস্থান ও বিক্ষোভের কারণে যান চলাচলে প্রভাব পড়ে। অটোরিকশা চলাচল কমে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীদের পরিবহন সংকটে পড়তে হয়। কোথাও কোথাও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালকেরা বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালকদের কয়েক হাজারের একটি অংশ সকাল সাড়ে ১০টার পর সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেওয়ায় ওই এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে মিছিল নিয়ে পল্টনের দিকে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন দাবিতে কয়েক হাজার অটোরিকশা চালক প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করেছিলেন।

এদিকে বিক্ষোভের সময় অন্য রিকশা চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবিগুলো দ্রুত সমাধান না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top