ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি আটক!

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামে তাঁর বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। কক্‌রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের নির্দেশনা না মানা এবং বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার বিষয়টি আটকের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। দেশটির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এ ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে একই দাবিতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন ধ্রুব রাঠি। সেখানে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপর তাঁর নাগরিকত্ব ও ভিসার বৈধতা যাচাইয়ের দাবি ওঠে। বেঙ্গালুরুর সাবেক পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও এ বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রযোজ্য আইন ও ভিসার শর্ত অনুযায়ী যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মসূচিটির অনুমতি দেয়নি। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড় এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ধ্রুব রাঠিকে আটকের ঘটনায় বিক্ষোভের পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও আলোচনায় এসেছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনুমতিহীন কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার, এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই বর্তমানে ভারতে বিতর্ক চলছে। ধ্রুব রাঠিকে আটকের পর সেই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top