তাজমিনের ১৭ দিনের প্রেমিক কে এই রাজু

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজু চৌধুরী (২০) নামের এক তরুণের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পরিচয়ের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় ওই তরুণের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে বাড়ি ছেড়ে কক্সবাজারে গিয়েছিল কিশোরীটি। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাজমিন হত্যাকাণ্ডে রাজুর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাজমিনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার ঘটনাটি পরিবারের কাছে প্রথমে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। সে বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি ছেড়েছিল। পরে কয়েক দিন তার খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় সে কোথায় আছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং কীভাবে যাতায়াত করছে, তা নিয়ে নানা তথ্য সামনে আসতে থাকে।

কক্সবাজারে তাজমিনের যাতায়াতের বিষয়ে একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মী আবদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু তাঁদের কাউন্টারে এসেছিলেন। পরদিন কুমিল্লায় ফেরার জন্য রাজু একটি বাসের টিকিট কাটেন। এরপর ৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ওই বাসে তাজমিন ফিরছিল।

বাসটির কুমিল্লায় পৌঁছানোর সময় নিয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের কাছে বাস থেকে তাজমিনকে নামতে দেখা যায় বলে সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরে সে নগরের রেইসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাজমিনকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পরিচয়, কক্সবাজারে যাওয়া এবং সেখান থেকে ফেরার ঘটনাগুলো হত্যাকাণ্ডের আগের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে সামনে এসেছে। তবে কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কিংবা একসঙ্গে ভ্রমণ করার তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রাজুর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানা যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top