১৭ বছর পরও রাত ১২টায় তাঁর এসএমএস আপ্লুত করে অপু বিশ্বাসকে

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের জন্মদিনের আনন্দে এবার বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এক বিশেষ মানুষের শুভেচ্ছাবার্তা। দীর্ঘ ১৭ বছর আগে, ২০০৯ সালে যার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল, সেই ব্যক্তির কাছ থেকে জন্মদিনের প্রথম প্রহরে একটি এসএমএস পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছেন অভিনেত্রী। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। ফলে বার্তাটি কে পাঠিয়েছেন, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

১১ অক্টোবর অপু বিশ্বাসের জন্মদিন। এদিন তিনি ৩৭ বছর পেরিয়ে ৩৮ বছরে পা দিয়েছেন। জন্মদিনের প্রথম প্রহরে ছেলে আব্রাহাম খান জয়কে পাশে নিয়ে কেক কাটেন তিনি।

অপু জানান, ২০০৯ সালে পরিচিত হওয়া ওই ব্যক্তির কাছ থেকে রাত ১২টায় পাওয়া ছোট্ট এসএমএসটি তাঁর কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বার্তাটি তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে এবং জন্মদিনের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিচয় গোপন রাখলেও ওই ব্যক্তির শুভেচ্ছা যে তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, তা স্পষ্ট করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জন্মদিনের প্রথম প্রহরে কাছের মানুষদের ফোনকলও তাঁর কাছে আনন্দের বিষয়।

ছেলে জয়কে নিয়ে বদলে গেছে জন্মদিনের আনন্দ

অপু বিশ্বাসের কাছে এখন জন্মদিনের উদ্‌যাপনের অর্থ আগের চেয়ে আলাদা। ছেলে জয় জীবনে আসার পর থেকে দিনটির অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগে জয়কে কোলে নিয়ে জন্মদিন উদ্‌যাপন করতেন, এখন ছেলেকে পাশে বসিয়ে কেক কাটেন। সন্তানের সঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তগুলো তাঁর কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে রয়েছে।

ব্যক্তিজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও অতীতের অধ্যায় নিয়েও কথা বলেছেন এই চিত্রনায়িকা। তাঁর মতে, জীবনে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা থেকেই কিছু না কিছু শেখার থাকে। অতীতের হিসাব মেলানোর চেয়ে জীবন যেভাবে এগিয়ে চলেছে, সেভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

সন্তান জন্মের পর জীবনের কঠিন সময়গুলো তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে বলেও জানিয়েছেন অপু। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা, একা চলতে শেখা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও নতুন করে জীবন গড়ে তোলার শিক্ষা পেয়েছেন তিনি। জীবনের প্রত্যাশা পূরণ না হলেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না; বরং কঠিন সময় মানুষকে আরও শক্ত ও পরিণত করে, এমন উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

বিশেষ মানুষটি কি শাকিব খান?

২০০৯ সালে পরিচিত হওয়া সেই ব্যক্তির পরিচয় সামনে না আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপু বিশ্বাসের ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে চিত্রনায়ক শাকিব খানের দীর্ঘ সম্পর্ক, বিয়ে ও বিচ্ছেদের ইতিহাস থাকায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তাটি কি শাকিব খানের কাছ থেকে এসেছে?

তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাননি অপু বিশ্বাস। ফলে বার্তাটি শাকিব খান পাঠিয়েছেন, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। আপাতত বিশেষ ওই ব্যক্তির পরিচয় অজানাই রয়ে গেছে।

অন্যদিকে, নিজের সাফল্য সম্পর্কেও খোলামেলা কথা বলেছেন অপু। তাঁর কাছে সাফল্য শুধু জনপ্রিয়তা কিংবা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কাজের মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

মা হিসেবে ছেলে জয়কে ঘিরেও রয়েছে তাঁর প্রত্যাশা। নিজের ভালো দিকগুলো সন্তানের মধ্যে ধরে রাখতে চান তিনি। জীবনে এখনো অনেক চাওয়া রয়েছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা, সন্তানের সঙ্গে কাটানো সময় এবং কাছের মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গী করেই সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top