“বাংলাদেশ ভারতকে পথ দেখিয়েছে”

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে ভারতের তরুণ সমাজ, এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদ আন্দোলন নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। নেহা বোরার মতে, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম ভারতের তরুণদের সামনে আন্দোলনের একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্ট ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং ভারতের শিক্ষাঙ্গনে উগ্রবাদী প্রভাবের বিরুদ্ধে তরুণদের অবস্থানের মধ্যে মিল দেখছেন তিনি।

নেহা বোরা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংগ্রামের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দুই দেশের শিক্ষাঙ্গনেই উদ্বেগের বিষয়। তাঁর বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও ভালো সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

ভারতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদ বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তৃত হয়েছে। নির্বাচনী সংস্কার, ভিন্নমতের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির মতো বিষয়ও দেশটির প্রতিবাদী তরুণদের আলোচনায় রয়েছে। নেহা বোরা এসব আন্দোলনের পরিচিত মুখ হিসেবে সামনে এসেছেন। সম্প্রতি পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরও তাঁকে ঘিরে আলোচনা বাড়ে।

এদিকে, গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের সময় নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছিল। পরে পুলিশ তাঁকে মুক্তি দেয়। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ওই আন্দোলন চলছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেহা বোরার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতার তুলনা উঠে এসেছে। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এক নয়। তাঁর বক্তব্য মূলত শিক্ষার্থীদের সংগ্রাম, শিক্ষাঙ্গনে স্বাধীন চিন্তার পরিবেশ এবং তরুণদের পারস্পরিক সংহতির গুরুত্বকে সামনে এনেছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিবেশী দেশের তরুণদের আলোচনায় জায়গা করে নেওয়ায় বিষয়টি দুই দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top