রাজধানীর উত্তরায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
বুধবার সকালে উত্তরার আজমপুর এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বিমানবন্দর এলাকার দিকে সরে গিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং বেতন-ভাতাসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দাবি আদায়ের জন্য কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চলছে। বুধবার ছিল এ কর্মসূচির তৃতীয় দিন। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) উত্তরার আজমপুর এলাকায় একই দাবিতে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছিলেন।
পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পরে ধাপে ধাপে সড়কের একাংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বেলা দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার জানান, সকালে কয়েক শ শ্রমিক বিমানবন্দর থেকে জসীমউদ্দীন পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে তাঁরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।
অবরোধের প্রভাব পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশাপাশি বিমানবন্দর সড়ক, বিআরটি লেন এবং উত্তরার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতেও। দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় অনেক যাত্রী বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে একদিকে মজুরি বৃদ্ধির দাবি, অন্যদিকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। শ্রমিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানান, বুধবারের কর্মসূচি শেষ হলেও বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আবারও সড়কে নামবেন তাঁরা।
তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা সমাধানের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে দাবি আদায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে আন্দোলন কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

