সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০০ কোটি টাকায় তৈরি হবে ১৮৪টি ফ্ল্যাট

রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ভবনে মোট ১৮৪টি ফ্ল্যাট থাকবে। ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নির্মিত প্রতিটি ভবন হবে ১৩ তলা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫০ বর্গফুট। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবাসিক ভবনগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এর পুরো অর্থ সরকার বহন করবে। ভবন নির্মাণের জন্য জিগাতলায় প্রায় ২ দশমিক ৪৪ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জিগাতলা সরকারি কলোনির ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলা হবে। এসব ভবন অপসারণের বিষয়ে ভবন কনডেমনেশন কমিটির অনুমোদনও পাওয়া গেছে। পুরোনো ভবনগুলোর জায়গাতেই নতুন তিনটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের কাঠের কারখানা এলাকায় পাঁচটি এবং শিয়ালবাড়ি এলাকায় ছয়টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এসব ভবনের প্রতিটি ১৪ তলা। এ ছাড়া নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জেও ১৫টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।

নতুন আবাসন প্রকল্পের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনসংকট রয়েছে। তবে আগে দেখতে হবে নির্মিত ভবনগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার ও বরাদ্দ হচ্ছে কি না। কোনো ভবন খালি পড়ে থাকলে বা ঠিকমতো বরাদ্দ না হলে তার কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নতুন ভবন নির্মাণের আগে বিদ্যমান ভবন অব্যবহৃত থাকার সমস্যার সমাধান করা উচিত।

এদিকে একই একনেক সভায় মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি টাকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top