রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ।
বৈঠকে পুতিন জানান, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় রাশিয়া সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি ইরানের জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি তারা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে, আরাগচি সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে সাংবাদিকদের জানান, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শর্তের কারণে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি সম্ভব হয়নি।
আরাগচি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কী ধরনের শর্তে আলোচনা এগোতে পারে, সে বিষয়েও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় চলছে।
এ সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কথা বলেন তিনি। আরাগচি জানান, এই জলপথে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক ইস্যু। তিনি ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে এবং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সহযোগিতা বাড়াতে নতুন আলোচনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিশ্লেষক এমা শর্টিস মনে করেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতদের পাকিস্তান সফর বাতিল, কূটনৈতিক অগ্রগতিকে থামিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় নতুন দিকে মোড় নিতে পারে। তবে সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও তিনি মনে করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেখানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে কিছুটা নমনীয়তার আভাস রয়েছে।
সব মিলিয়ে, সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও আলোচনার সম্ভাবনা টিকে থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সংকট কোন পথে এগোবে।

