যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে নিজের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে এই শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে দেশটির প্রায় সাত কোটি ২০ লাখ থেকে সাত কোটি ৩০ লাখ শিশু এ উদ্যোগের আওতায় আসতে পারে। বর্তমান শেয়ারমূল্য বিবেচনায় এর মোট আর্থিক মূল্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেবেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এটি তাঁর এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে আরও এমন উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ১৪৬ দশমিক শূন্য ৩ ডলার। দেশটিতে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় সাত কোটি ৩০ লাখ ধরে হিসাব করলে, প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দিতে মোট ব্যয় বা শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। তবে শেয়ারবাজারের ওঠানামার কারণে এ মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে।
মাস্কের এই ঘোষণা এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের একটি উদ্যোগের পর। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে তাদের ৫ শতাংশ শেয়ার একটি নতুন জনকল্যাণমূলক তহবিলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় মাস্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি শেয়ার বিতরণের পক্ষে মত দেন। পরে নিজের স্পেসএক্সের শেয়ার শিশুদের দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন তিনি।
স্পেসএক্স মহাকাশযান, রকেট ও স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মাস্কের মহাকাশ ও প্রযুক্তি ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশুকে শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে তা হবে বড় অঙ্কের সম্পদ হস্তান্তরের একটি উদ্যোগ।
তবে ঘোষণাটি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশু, নাকি নির্দিষ্ট কোনো যোগ্যতার আওতাভুক্ত শিশুরা শেয়ার পাবে, তা স্পষ্ট নয়। কীভাবে শেয়ারগুলো শিশুদের কাছে পৌঁছানো হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রশাসনিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত শিশুদের বিনিয়োগ হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার বিতরণের সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।

