উহুদের যুদ্ধে যে নারী সাহাবী তলোয়ার হাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রক্ষা করছিলেন

ইসলামের ইতিহাসে সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন সাহাবি নুসাইবা বিনতে কাব (রা.)। তিনি উম্মে আম্মারা নামেও পরিচিত। উহুদের যুদ্ধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে রক্ষা করতে অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন এই নারী সাহাবি। যুদ্ধের শুরুতে আহতদের সেবা ও যোদ্ধাদের পানি পান করানোর দায়িত্ব পালন করলেও পরিস্থিতি বদলে গেলে তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।

৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত উহুদের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী একপর্যায়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে। শত্রুপক্ষের আক্রমণে মুসলিম শিবিরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে মহানবী (সা.)-এর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এ সময় নুসাইবা (রা.) অস্ত্র হাতে নিয়ে তাঁর প্রতিরক্ষায় এগিয়ে যান। তলোয়ার ও তির ব্যবহার করে তিনি শত্রুপক্ষের মোকাবিলা করেন। যুদ্ধের সময় তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত লাগে। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর কাঁধের একটি গুরুতর ক্ষত সারতে প্রায় এক বছর সময় লেগেছিল।

নুসাইবা (রা.)-এর বীরত্ব শুধু উহুদের যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি হুদাইবিয়ার সন্ধি ও হুনাইনের যুদ্ধের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর ইয়ামামার যুদ্ধে অংশ নিয়েও তিনি সাহসিকতার পরিচয় দেন। ওই যুদ্ধে তাঁর এক হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরে একাধিক আঘাত লাগে।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে নারীদের ভূমিকা সম্পর্কে নুসাইবা (রা.)-এর জীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উদাহরণ। তিনি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সাহস দেখাননি, বরং আকাবার দ্বিতীয় বাইআতেও অংশ নিয়েছিলেন। মহানবী (সা.)-এর প্রতি তাঁর আনুগত্য ও আত্মত্যাগ তাঁকে ইসলামের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top