সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সাথে একটি বিষয় নিয়ে মতবিরোধের পর মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হঠাৎ কার্যক্রম স্থগিত করে। ঘটনাটি ঘটে আপেল বিভাগের আদালতকক্ষে প্রায় দুইটা আটাত্তরিশ জন বিচারপতির সামনে। পরে আদালত আর বসেনি বলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্র থেকে জানা যায়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি মামলায় একজন মহিলা আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা খরচা আরোপের আদেশ নিয়ে। সেই সকালে এই খরচা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনা করার সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন দাবি করেন যে প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আপিল বিভাগে মামলা শোনানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে আইনজীবীদের আয় হ্রাস পেয়েছে। তিনি এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি নবিশ আইনজীবীর জন্য পাঁচ লাখ টাকা খরচা কমিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
মাহবুব উদ্দিন খোকনের এই মন্তব্যে প্রধান বিচারপতি স্পষ্টভাবে আপত্তি করেন। আইনজীবী সমিতির সভাপতি পরবর্তীতে বলেন যে প্রধান বিচারপতি তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়েছেন এবং তিনি সেই মুহূর্তে বুঝতে পারেননি যে পরিস্থিতি এত সংবেদনশীল হয়ে উঠবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এই বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়ে জানান যে প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা এবং সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি খরচা আরোপণের সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে একটি দীর্ঘমেয়াদী কেস ইতিহাস। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই মামলায় বাদী পক্ষ একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পাঁচটি রিট করেছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন। এই ধরনের কৌশলকে আদালত গুরুতর জালিয়াতি হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং এই কারণেই খরচা নির্ধারণ করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, এই অর্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা করা হবে।
মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন যে আপিল বিভাগে এক সময় এগারো জন বিচারপতি ছিলেন এবং তিনটি বেঞ্চ কাজ করত। বর্তমানে সেটি মাত্র একটি বেঞ্চে সীমাবদ্ধ হওয়ায় মামলা শোনানির হার কমেছে। তিনি জনগণের দীর্ঘমেয়াদী ন্যায়বিচার বিলম্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

