গাড়ি থামিয়ে গুলি, বিকাশের দুই বস্তা টাকা লুট

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের একটি ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বহনকারী প্রাইভেটকারে গুলি চালিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়িতে থাকা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন আরও কয়েকজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার শিকার ব্যক্তিরা ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের কর্মী। প্রতিষ্ঠানটি গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রম পরিচালনা করে। নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করে মাওনায় ফেরার পথে তাঁরা হামলার মুখে পড়েন।

মোটরসাইকেলে এসে পথরোধ

প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় এবং পোশাকশ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে নরসিংদীর একটি ডিস্ট্রিবিউশন অফিস থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে তিনটি বস্তায় ভরে টাকা প্রাইভেটকারে তোলা হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাড়িটি মাওনা চৌরাস্তার উদ্দেশে রওনা দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কর্ণপুর এলাকার একটি সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত গাড়িটির গতিরোধ করে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙে এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ সময় গাড়িতে থাকা অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিমেল পেটে গুলিবিদ্ধ হন। প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মকর্তা ফাহাদ এবং গাড়িচালক লাল মিয়াও হামলায় আহত হন। অন্য কর্মকর্তাদের মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

দুই বস্তা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা

হামলাকারীরা গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের দাবি, গাড়িতে মোট চার কোটি টাকা ছিল। এর মধ্যে ছিনতাই হওয়া অর্থের পরিমাণ তিন কোটি টাকার বেশি বলে তাঁদের ধারণা। তবে ছিনতাই হওয়া টাকার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

হামলার পর আহত অবস্থায় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গুলিবিদ্ধ হিমেলকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহত ব্যক্তিদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। আহত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ নির্ধারণ এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

এদিকে, এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহনের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, সে বিষয়টিও সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না এবং অর্থ পরিবহনে পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি।

প্রকাশ্য সড়কে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হামলাকারীরা কারা, কীভাবে তারা অর্থ পরিবহনের খবর পেয়েছিল এবং ছিনতাই হওয়া টাকা কোথায় নেওয়া হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top