নিঃসন্তান আয়িশা (রা.)-কে কেন ‘আব্দুল্লাহর মা’ ডাকা হতো?

ইসলামের ইতিহাসে হজরত আয়েশা (রা.)-এর মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী এবং মুমিনদের মা হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর নিজের কোনো সন্তান ছিল না। এ কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, সন্তান না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ বা ‘আবদুল্লাহর মা’ বলা হতো?

হজরত আয়েশা (রা.) একদিন মহানবী (সা.)-কে বলেছিলেন, তাঁর অন্য সঙ্গিনীদের ডাকনাম বা কুনিয়া রয়েছে, কিন্তু তাঁর কোনো কুনিয়া নেই। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে তাঁর ভাগনে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)-এর নাম অনুসারে কুনিয়া গ্রহণ করতে বলেন। এরপর থেকেই তিনি ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ নামে পরিচিত হন। ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ শব্দের অর্থ ‘আবদুল্লাহর মা’।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) ছিলেন হজরত আয়েশা (রা.)-এর বোন আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-এর ছেলে। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে ভাগনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। মহানবী (সা.)-এর দেওয়া এই কুনিয়ার মাধ্যমে তিনি মাতৃত্বের পরিচয়সূচক একটি বিশেষ সম্বোধন লাভ করেন।

এখানে মনে রাখা জরুরি, ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ তাঁর জৈবিক সন্তানের মা হওয়ার পরিচয় নয়; এটি ছিল তাঁর কুনিয়া বা সম্মানসূচক সম্বোধন। ইসলামী ঐতিহ্যে সন্তান না থাকলেও কাউকে কুনিয়া দিয়ে ডাকার প্রচলন রয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.)-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ছিল তেমনই।

হজরত আয়েশা (রা.) ইসলামের ইতিহাসে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও হাদিস বর্ণনার জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর ‘উম্মে আবদুল্লাহ’ পরিচয় তাই শুধু একটি নাম নয়; এটি মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁর পারিবারিক জীবনের একটি ঐতিহাসিক স্মারক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top