দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চার মাস বয়সী এক শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মামার বিরুদ্ধে। নেশার টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মামা জিয়ারুল ইসলামকে (২৩) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটেছে পার্বতীপুর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে। আটক জিয়ারুল ইসলাম ওই গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে জিয়ারুল চার মাস বয়সী মাহিন ইসলামকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান।
শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর দিনাজপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর নিউ টাউন এলাকার মাতা সাগর এলাকায় মিলন নামে এক ব্যক্তির কাছে তাকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। সকালে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে দিনাজপুর সদর থানা ও পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দিনাজপুর সদর থানা পুলিশ মাতা সাগর এলাকা থেকে মিলনের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এরপর মাহিনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটিকে চন্দ্রপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা।
এদিকে শিশুটির মা ও নানির সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার মামা জিয়ারুল জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করেন। এরপর তাকে পার্বতীপুর মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, শিশুটির মা মনিরা কয়েক দিন ধরে সন্তানকে নিয়ে তার মায়ের বাড়ি চন্দ্রপুরে অবস্থান করছিলেন। রাতে শিশুটিকে তার মামা জিয়ারুল নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুকে চুরি ও পাচারের অভিযোগে জিয়ারুল ইসলাম ও মিলনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পার্বতীপুর থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ একই সঙ্গে ঘটনাটির পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে। শিশুটিকে বিক্রির ঘটনায় কোনো মানবপাচারকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চার মাসের শিশুটিকে ইতোমধ্যে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

