মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাতেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
তবে সরকার এই বাজার চালুর প্রক্রিয়ায় কাজ করলেও ঠিক কবে থেকে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্মারকলিপি গ্রহণকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্মারকলিপিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন বায়রার সাবেক প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত ৩১২টি এজেন্সিসহ সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া, সিন্ডিকেট ও একচেটিয়া আধিপত্য বন্ধ করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সব যোগ্য মেডিক্যাল সেন্টার উন্মুক্ত করা এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুরও দাবি জানানো হয়।
বায়রার একাংশের প্রতিনিধিদের মতে, শুধু ২৫টি এজেন্সিকে সুযোগ না দিয়ে তালিকাভুক্ত ৩১২টিসহ সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হলে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ওঠার আর কোনো সুযোগই থাকবে না।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত সব দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন সচিব মো. মোখতার আহমেদ, পরে জানান এসব গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার বাজার চালুর সুযোগ নিয়ে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে ফায়দা লুটতে না পারে এবং শ্রমবাজার যাতে কোনো সিন্ডিকেটের কবলে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে সক্রিয় দালাল ও প্রতারক চক্রের বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

