গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শাহজালাল রুমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গাজীপুর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন তিনি। মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন রুমি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেখতে পান সংবাদকর্মীরা। ভবনটির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই রুমি ও তাঁর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে তাঁরা বাসায় থাকছেন না। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ রুমি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কেয়ারটেকার জানান, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন রুমি। এ কারণে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘটনার শিকার শিশুটিও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানান হাবিবুর রহমান।
পেশায় ফেব্রিক ব্যবসায়ী শাহজালাল রুমি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত। ঢাকায় ব্যবসার কারণে বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তাঁর মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের চার বছর।
রুমির বক্তব্য অনুযায়ী, সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা থেকেই মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা তিনি ভাবেননি। ঘটনার পর ফেসবুক লাইভেও নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ ও ভাঙচুরের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন রুমি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, দুটি মামলাই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও বেড়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

