ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার এক আসামি শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান বিপ্লবের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, রুবেল আহমেদের কথা আপনাদের মনে আছে নিশ্চই? ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদ।
গত বছরের ১৫ জানুয়ারি বহুল আলোচিত কলকাতার পার্ক হোটেলের একটি সভায় এই রুবেল ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলো। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর — আত্মগোপনে থেকে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্নস্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির তৎপরতায় সংশ্লিষ্টতার কারণে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি জনাব ইবনে মিজানের সার্বিক নির্দেশনায় এডিসি ও এসি মোহাম্মাদপুর জোন এবং ওসি মোহাম্মাদপুর থানা কর্তৃক পরিচালিত এক অভিযানে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ গভীর রাতে বছিলা মেট্রো হাউজিং এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করেন।
এই গ্রেফতারের পর ৩০ এপ্রিল ২০২৫ রুবেল আহমেদ সুপ্রীম কোর্ট হতে জামিন পেয়ে বের হয়। ঘটনা ইন্টারেস্টিং মোড় নেয় ২১ জানুয়ারি ২০২৬, এদিন মধ্যরাতে জামিনে থাকা রুবেল আহমেদকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয় — কারণ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান রাহুল ওরফে শুটার ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এই রুবেল আহমেদকে চিহ্নিত করা হয়, এবং ওসমান হাদি মামলায় তাকে আসামী করা হয়
এর একদিন পর ২২ জানুয়ারি ২০২৬ আদালতে রুবেলকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা, তবে আদালত ৬ দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ড শেষে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইসমাইলের খাস কামরায় রুবেল আহমেদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন, যা এই পোস্টে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে রুবেল আহমেদ উল্লেখ করেন, ছাত্র নেতা ওসমান হাদি এবং ইউটিউবার কাফি’কে হত্যার নির্দেশ দেয় ভারতে পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লব। এবং সে লক্ষ্যে ৩ নভেম্বর ২০২৫, রুবেলের উপস্থিতিতে হত্যা মামলার অপর আসামী কামরুজ্জামান রুবেলকে ফোন করেন বিপ্লব।
রুবেল জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, যে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ এবং বিভিন্ন বাজে মন্তব্যের কারণে এই দুই ব্যক্তিকে ২০/২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সরিয়ে দিতে (হত্যা) নির্দেশ দেয়া হয়।
জবানবন্দিতে রুবেল লিখেছেন — কামরুজ্জামান রুবেল ফয়সালের কাছে কিছু টাকা পান, কিন্তু সে টাকাটা ফেরত দিচ্ছেনা, তাই ফয়সালকে কাজটা দিয়ে পূর্বের টাকাটা তুলতে হবে আর ফয়সালও কাজ খুঁজছে। বিপ্লব (নানকের পিএস) কাজটা কামরুজ্জামান রুবেলকে দিয়েছে, আর সে কাজটা ফয়সালকে দিয়েছে ‘হাদি’কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার কাজ’।
রুবেলের জবানবন্দিতে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে আওয়ামী লীগ নেতা নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশে হাদি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। রুবেল আহমেদ যদি তার জবানবন্দিতে সকল সত্য তথ্য প্রদান করে থাকে, তাহলে যা দাঁড়ায় তা হলো, তিনি ২০২৫ এর ৩রা নভেম্বর জানতে পারেন যে হাদি ও কাফি’কে হত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে, এবং কারা তা ঘটাতে পারে। সেসব জেনেও তিনি কোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে অবগত করেননি? উল্লেখ্য এসময় রুবেল আহমেদ জামিনে মুক্ত ছিলেন।
জুলকারনাইন সায়ের খান ১৬৪ ধারায় দেয়া রুবেলের জবানবন্দিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের লিংক তার কমেন্টবক্সে দেন।

