১৪ বোতল মদসহ অভিনেত্রী মেহেজাবিন চৌধুরী আটক

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, তাঁর স্বামী পরিচালক ও প্রযোজক আদনান আল রাজীব, এবং চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল মদসহ আটক হওয়ার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন।

এ ঘটনাটি গত বছরের আগস্ট মাসে ঘটে। তারা ১৭ই আগস্ট ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার সময় গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কাস্টমস কর্মকর্তাদের নিয়মিত তল্লাশির সময় তাদের লাগেজে ১৪ বোতল অ্যালকোহল পাওয়া যায়। বিমানবন্দরে অ্যালকোহল বহন আইনত দণ্ডনীয়। বিদেশী নাগরিকরা ১ লিটার অ্যালকোহল বহন করতে পারলেও বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত কাস্টমস আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়ে থাকে।


তবে এই ঘটনায় আশ্চর্যজনকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মদগুলো জব্দ করলেও আটক তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি কিংবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরও করা হয়নি। ফলে বিমানবন্দর থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা একটি নোটে উল্লেখ করেন যে সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করেছেন এবং নিষিদ্ধ পণ্য বহন করেছেন। তবুও পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

আটককারী কর্মকর্তা হিসেবে নোটে স্বাক্ষর করেছেন ডি শিফটের এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার (এআরও) মো. মোতাকাব্বির আলী। তিনি বর্তমানে সিলেটে আছেন। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটককারী দুই কর্মকর্তা থেকেও মুচলেকা নিয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে সরাসরি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মেহজাবীন চৌধুরী ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্তের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জনসমক্ষে আসেনি। ফলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ হলেও এই ঘটনায় ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে কি না। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ঘটনার পেছনে প্রশাসনিক বিবেচনা বা বিশেষ পরিস্থিতি থাকতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ১৪ বোতল মদসহ আটক ও পরে মুক্তির ঘটনাটি আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থেকেই যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top