দেশের প্রচলিত শিক্ষা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেছেন, বর্তমানে যেভাবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে, তা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজন মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অকার্যকর কাঠামো তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে “ডিফেক্টিভ” বা ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যা দেন। তার মতে, বিদ্যমান কাঠামো আংশিক সংস্কার নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দরকার নেই। অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব উৎপাদনশীলতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”
ব্যারিস্টার ফুয়াদ দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা কাঠামোর পরিবর্তে দক্ষতা ও বাস্তবজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা চালু করা উচিত। তিনি বলেন, একজন মানুষ ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যেই প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান, নৈতিকতা ও দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম। তাই বছরের পর বছর ধরে চলা প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত কিন্তু কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতির দিকে যেতে হবে।
তার বক্তব্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাহীনতার বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সরকারি স্কুলের শিক্ষক নিজেদের সন্তানকে বেসরকারি বা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ান। একইভাবে অনেক চিকিৎসক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। তার মতে, এসব ঘটনা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ এলাকায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদরাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থাকে দায়ী করেন।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য পুনর্নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা নাগরিককে সমাজ, ইতিহাস ও রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা দেবে, পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলবে। বর্তমান কাঠামো পরিবর্তন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

