রায়ে সন্তুষ্ট নন আবু সাঈদের বাবা

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। রায় ঘোষণার পরপরই ভুক্তভোগীর বাবা-মা ও স্বজনরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন এবং আরও কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রংপুরে আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান তার বাবা মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলায় মাত্র দুজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা তাদের কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত থাকলেও তারা তুলনামূলকভাবে কম শাস্তি পেয়েছে বা কেউ কেউ রেহাই পেয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হত্যার নেপথ্যে যারা পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া হত্যার সাথে গভীরভাবে জড়িত থাকলেও তাকে মাত্র ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথাও ভাবা হচ্ছে। তাদের মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় দুই সাবেক পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। মামলার রায়ে যে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত তিনজন হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং এসআই বিভূতি ভূষণ রায়।

অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডল, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশিদ এবং রংপুরের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান। তাদের প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ডা. সারোয়াত হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী এবং সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ও আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ও ধনঞ্জয় কুমার এবং দফতর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই রায় আংশিকভাবে বিচার প্রতিষ্ঠা করলেও পরিবারের অসন্তোষ প্রমাণ করে যে মামলাটির সামাজিক ও মানসিক প্রভাব এখনো গভীর। অনেকেই মনে করছেন, আপিলের মাধ্যমে রায়ের পুনর্বিবেচনা হতে পারে এবং তাতে চূড়ান্ত বিচার আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top