নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলায় ভারতীয় চোরাই প্রসাধনী জব্দের ঘটনায় ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে নিয়ে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী। একই সঙ্গে পিকআপের চালক নাছিম (২৩) এবং তার সহকারী মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওগুলোতে কথোপকথনে এক ব্যক্তিকে এসআই আবু হানিফা এবং অপরজনকে চোরাই পণ্যের মালিক হিসেবে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন (৩৫) বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি অডিওতে শোনা যায়, জসিম নামের ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তাকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে মামলা না দেওয়ার অনুরোধ করছেন। জবাবে এসআই তিন লাখ টাকা দাবি করেন বলে শোনা যায়।
অডিওর এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন, “ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।” পরে আরেকটি অডিওতে টাকার পরিমাণ কমিয়ে আড়াই লাখ টাকা চাওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে হওয়া কথোপকথন অন্য ফোনে রেকর্ড না করার পরামর্শ দিতেও শোনা যায় ওই ব্যক্তিকে।
অডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরে জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম রাতেই অভিযুক্ত এসআইকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন দাবি করেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার দেখছেন এবং চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটকের চেষ্টা চলছে।

