যাত্রী মনে করে পুলিশের মাইক্রোবাসে ডাকাতির চেষ্টা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে ডাকাতির চেষ্টায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছ। সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি ভেবে পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে লোহার পাইপ নিক্ষেপ করে ডাকাত দল। তবে ঘটনাস্থলেই পুলিশের ধাওয়ায় রবিউল হোসেন (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে ডাকাতির জন্য একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে অপরাধীরা। সাধারণত যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত গাড়িকে লক্ষ্য করে তারা লোহার রড বা পাইপ ছুড়ে মারে। এতে বিকট শব্দ হলে চালকরা গাড়ি থামিয়ে সমস্যার কারণ খুঁজতে চেষ্টা করেন। সেই সুযোগেই সংঘবদ্ধ ডাকাত দল যাত্রীদের ওপর হামলা চালায় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। গত রাতেও একই পদ্ধতিতে পুলিশের সদস্যদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে গাড়িটি পুলিশের হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় এবং ধাওয়া দিয়ে একজনকে আটক করা সম্ভব হয়।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার রবিউল হোসেন উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ডাকাতির মামলা। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু এলাকায় গভীর রাতে প্রায়ই ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে নির্জন অংশগুলোতে অপরাধীরা বিভিন্ন ফাঁদ তৈরি করে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেক চালকই এখন রাতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ধীরগতিতে চলাচল করতেও ভয় পান।

এর আগেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের নুনাছড়া এলাকায় বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসে ডাকাতি হয়। সেখানেও প্রথমে গাড়িতে রড নিক্ষেপ করা হয়েছিল। যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে কী হয়েছে বুঝতে গেলে ডাকাত দল তাদের ওপর হামলা চালায়।

বিশ্লেষকদের মতে, মহাসড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু টহল বাড়ালেই হবে না, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নির্জন এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা, হাইওয়ে পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো জরুরি। তা না হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যাত্রী নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top