বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার দল অপ্রয়োজনীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছে। তবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে যেসব সরকারি সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করাকে তিনি কোনো অপরাধ মনে করেন না। বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় জামায়াত দেশবাসীর সামনে স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করেছিল যে, দলের কেউ সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী নির্বাচিত হলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যক্তিগত গাড়ি কিনবেন না এবং সরকারি প্লটও নেবেন না। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দল আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তবে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দলের বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন। তাদের দাবি, জামায়াত সরকারি ফ্ল্যাটও ব্যবহার করবে না এমন প্রচারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জামায়াত আমিরের ভাষ্য, সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফ্ল্যাট কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে দেওয়া একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। সংসদ কার্যকর থাকা পর্যন্ত সরকারি দল ও বিরোধী দল, উভয় পক্ষের সদস্যরাই এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা সংসদ বিলুপ্ত হলে ওই ফ্ল্যাটে এক মুহূর্তও থাকার নৈতিক কিংবা আইনগত অধিকার কারও থাকে না। তখন তা অবশ্যই ছেড়ে দিতে হয়। তাই দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি বাসস্থান ব্যবহারকে ব্যক্তিগত সুবিধা হিসেবে দেখানো বা এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

