২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই তরুণ নেতাকে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ নতুন সাক্ষ্য উঠে এসেছে। সাক্ষী মোছা. সেলিনা বেগম দাবি করেছেন, নিহতদের একজন টিপু হাওলাদারকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়েছিলেন এবং তার দুই দিন পর তাকে ক্রসফায়ারে মারা হয়।
সেলিনা বেগমের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে তার বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন টিপু হাওলাদার, যিনি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সেই রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক দল মানুষ তার বাড়িতে আসে এবং ঘুম থেকে টিপুকে জাগিয়ে নিয়ে যায়। তারা জানায় বরিশাল থেকে এসেছেন এবং ঢাকার কিছু লোক তাদের সঙ্গে রয়েছেন।
পরের দিন সকালে টেলিভিশনে সেলিনা বেগম দেখতে পান টিপু ও আগৈলঝাড়ার জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা নামে দুজন ব্যক্তি ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার বিষয়ে তার ভাগনি থেকে তিনি শুনেছেন অন্য থানার দুজন পুলিশ টিপুকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করেছেন।
টিপু হাওলাদার ২০১১ সালে সেলিনা বেগমের ভাগনির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। সেলিনা বেগম আরও উল্লেখ করেছেন যে টিপু ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বাড়িতে এসেছিলেন এবং দুই দিন পরে তিনি ঘটনার সাক্ষী হন।
এই ক্রসফায়ার মামলায় চারজন আসামি রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ এখনও পলাতক। বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ছাত্রদল-জাসাসের এই দুজনকে ক্রসফায়ার দেওয়ার জন্য সাবেক দুই এএসআই টাকা পুরস্কার পেয়েছিলেন বলে বিচারে উঠে এসেছে।

