প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড এখন তাওহিদ হৃদয়ের। পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকা অবস্থায় ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
আগের দিনই ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া হৃদয়ের কাছ থেকে বড় কিছুর প্রত্যাশা ছিলই। ম্যাচের শেষ দিনে সেটিই করে দেখালেন তিনি। বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন হৃদয়। রকিবুল হাসান ও তামিম ইকবালের পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানও তিনি।
এতদিন প্রথম শ্রেণিতে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল তামিম ইকবালের—২০১৯ সালে বিসিএলে মিরপুরে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে পূর্বাঞ্চলের হয়ে করা ৩৩৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেলেন হৃদয়।
শেষ দিন সকাল থেকেই ট্রিপল সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকেন তিনি। দিনের দ্বিতীয় সেশনে ম্যাথু বোস্টের বল মিড অনে ঠেলে দৌড়ে ২ রান নিয়ে পূর্ণ করেন তিন শ। এরপর ড্রেসিংরুমের দিকে খানিকটা দৌড়ে ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে ধরেন। ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে ৪৫১ বল খেলেন হৃদয়, ততক্ষণে তার ইনিংসে ছিল ২৫টি চার ও ৬টি ছক্কা।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ৩৭ রানে ২ উইকেট পড়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন হৃদয়। এর আগে ৮১ বলে ৩৪ রান করে ফেরেন মোহাম্মদ নাঈম, ৫৪ বলে ২৯ রান করে আউট হন আফিফ হোসেন। পঞ্চম উইকেটে জাকের আলীর সঙ্গে ১৫১ রানের জুটি গড়েন হৃদয়; জাকের ফেরেন ৯৪ রানে। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সঙ্গে যোগ করেন আরও ১৮৫ রান, সাইফউদ্দিন করেন ৮৭।
ইনিংসের ১৩৯.৫ ওভারে সাইফউদ্দিন আউট হওয়ার পরই শেষ হয় তৃতীয় দিনের খেলা। হাতে ৪ উইকেট নিয়ে শেষ দিন শুরু করা বাংলাদেশ ‘এ’ দল সকালেই হারায় ২ উইকেট। অষ্টম উইকেট পড়ার সময় হৃদয়ের রান ছিল ২২৫। সেখান থেকে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন রেজাউর রহমান। দলীয় ৬৫৮ রানে ৮ উইকেট পড়ার পর্যায়ে হৃদয় ছিলেন ৩৩৩ রানে অপরাজিত, রেজাউর ১০১ বলে ৩১ রানে।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল করেছিল ৫১২ রান। হৃদয়ের রেকর্ডগড়া ইনিংসে ম্যাচটি নিশ্চিত ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে।

