একটিমাত্র ভিসা নিয়েই এবার মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন বিদেশি পর্যটকরা। শিগগিরই চালু হতে যাওয়া ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’র আওতায় এক ভিসাতেই ভ্রমণ করা যাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েতে।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই জানিয়েছেন, একীভূত এই পর্যটন ভিসা চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে এবং শিগগিরই তা কার্যকর হবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর একটি বিশেষ অধিবেশনে এই একীভূত ভিসা প্রসঙ্গে কথা বলেন জিসিসি মহাসচিব। ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে তৈরি এই ব্যবস্থা চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না, একটি ভিসাতেই মিলবে ছয় সদস্যদেশে অবাধ চলাচলের সুযোগ।
তবে ভিসাটি ঠিক কবে চালু হবে, ফি কত হবে, মেয়াদ কতদিনের এবং আবেদনপ্রক্রিয়া কেমন হবে, এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এই উদ্যোগ অবশ্য নতুন কিছু নয়, দীর্ঘদিন ধরেই এগোচ্ছে এর প্রস্তুতি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন দেন একীভূত পর্যটন ভিসার প্রস্তাবে, একই বছরের নভেম্বরে তাতে সায় দেন জিসিসির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও। এরপর পরিকল্পনাটি এগিয়ে যায় বাস্তবায়নের পথে। ২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি জানিয়েছিলেন, একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসা ইতিমধ্যে অনুমোদিত, এখন কেবল বাস্তবায়নের অপেক্ষা। তার ভাষায়, এই একক ভিসা ব্যবস্থা আঞ্চলিক সংহতি জোরদারের পাশাপাশি গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি অভিন্ন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিমানবন্দরেও মিলছে সহজ যাতায়াতের সুযোগ
একই অনুষ্ঠানে সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের চলাচল সহজ করার আরও কিছু উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন জিসিসির মহাসচিব। এর মধ্যে অন্যতম সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে চালু হওয়া ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ প্রকল্প, যেখানে যাত্রীরা একটি বিমানবন্দরেই সম্পন্ন করতে পারবেন পাসপোর্ট ও অভিবাসনসংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা। আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইলেকট্রনিক সংযোগ, বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই ও স্বয়ংক্রিয় প্রবেশপথের মাধ্যমে যাত্রীর তথ্য আগেভাগেই যাচাই হয়ে যাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছে আর নতুন করে অভিবাসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয় না তাদের।
তবে এই দুটি উদ্যোগ এক নয়। সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল মূলত জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিজেদের নাগরিকদের চলাচল সহজ করতে নেওয়া হয়েছে, আর গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসার লক্ষ্য বিদেশি পর্যটকদের জন্য ছয় উপসাগরীয় দেশে ভ্রমণ সহজ করা।
একীভূত পর্যটন ভিসা চালু হলে এক সফরেই ছয়টি দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে নতুন গতি আনার পাশাপাশি অঞ্চলটিকে একটি অভিন্ন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকেও এগিয়ে নেবে।
সূত্র: খালিজ টাইমস

